শুক্রবার, ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আজ মে দিবস—শ্রমের ঘামে ভেজা এক ইতিহাস, বঞ্চনার অন্ধকার ভেদ করে উঠে আসা অধিকার আর ভালোবাসার দীপ্ত এক দিন

স্টাফ রিপোর্টার
মে ১, ২০২৬ ১২:৪৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ফাইল ছবি-সংগৃহীত

আজ যে দিবস। এই দিনের উজ্জ্বল আলোতেও লুকিয়ে থাকে মশিউরের মতো হাজারো শ্রমিকের অব্যক্ত কষ্ট নি:শব্দ দীর্ঘশ্বাস, অদৃশ্য সংগ্রাম আর অপূর্ণ স্বপ্নের গল্প।

রাজধানীর ব্যস্ত কারওয়ান বাজারে টুকরি হাতে দাঁড়িয়ে থাকা মশিউর যেন এক জীবন্ত উপাখ্যান। একসময় দূর মরুভূমির দেশে স্বপ্ন খুঁজতে যাওয়া মানুষটি আজ বাস্তবতার কঠিন মাটিতে ফিরে এসে জীবনের সঙ্গে লড়াই করছেন প্রতিদিন। দুবাইয়ের বালুকাবেলায় শুরু হওয়া সেই স্বপ্ন হঠাৎই থেমে যায় কাজ হারানোর নির্মম বাস্তবতায়। ঋণের বোঝা কাঁধে নিয়ে দেশে ফিরে, তিনি যেন নতুন করে ভালোবাসতে শিখেছেন শ্রমকে—কষ্টের ভেতর দিয়েই।

প্রতিদিন ভোরে গাজীপুর থেকে ট্রেনে চেপে তেজগাঁওয়ে আসা, সারাদিন খেটে খরিদ্দারের বাজারের ব্যাগ পৌঁছে দেওয়া—এই ছোট ছোট কাজেই তিনি গড়ে তুলছেন নিজের বেঁচে থাকার গল্প। কিন্তু সেই গল্পে রোমান্সের মতোই আছে বেদনা—দিন শেষে টুকরির ভাড়া, খাবার খরচ, টয়লেট ফি আর ঋণের কিস্তি মিলিয়ে হাতে আর কিছুই থাকে না। যেন ভালোবাসা আছে, কিন্তু প্রাপ্তি নেই।

মশিউরের গল্প একা নয়—এটি লাখো শ্রমজীবী মানুষের প্রতিচ্ছবি। এমন এক বাস্তবতা, যেখানে মজুরি আর মূল্যস্ফীতির মধ্যে এক অসম প্রেমের গল্প চলে—যেখানে মজুরি কখনোই পৌঁছাতে পারে না বাড়তি দামের নাগালে। পরিসংখ্যান বলছে, মজুরি বাড়ছে, কিন্তু তার চেয়েও দ্রুতগতিতে বাড়ছে জীবনযাত্রার ব্যয়। ফলে প্রতিদিনই শ্রমিকেরা যেন নতুন করে হেরে যাচ্ছেন জীবনের কাছে।

তবুও শিকাগো শ্রমিক আন্দোলন ১৮৮৬-এর সেই আগুন আজও নিভে যায়নি। আট ঘণ্টা কাজ, আট ঘণ্টা বিশ্রাম আর ন্যায্য মজুরির দাবিতে যে ভালোবাসা আর বিদ্রোহের সূচনা হয়েছিল, তারই প্রতিধ্বনি আজকের এই মে দিবস। সেই ইতিহাস যেন এক প্রেমপত্র—শ্রমিকদের প্রতি, তাদের অধিকার আর মার্যাদার প্রতি।

৭০ বছর বয়সী রিকশাচালক মজনু মিয়ার কথায় উঠে আসে জীবনের নির্মম রোমান্স— পেটের দায়ে এই বয়সেও রিকশা চালাই। এই এক বাক্যেই যেন লুকিয়ে আছে বেঁচে থাকার গভীর ভালোবাসা আর অদম্য সংগ্রাম।

বাংলাদেশের প্রায় ৮৪ শতাংশ শ্রমিক কাজ করেন অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে—যেখানে নেই কোনো নিরাপত্তা, নেই আইনি সুরক্ষা, নেই ন্যায্যতার নিশ্চয়তা। তারা যেন সমাজের সেই অচেনা প্রেমিক, যাদের ভালোবাসা আছে, কিন্তু স্বীকৃতি নেই।

অন্যদিকে শিল্প খাতেও রয়েছে বৈষম্যের ছায়া। অনেক ক্ষেত্রেই ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ হয়নি। মালিক যা দেন, তাই মেনে নিতে হয় শ্রমিকদের—যেন একতরফা সম্পর্ক, যেখানে দাবির ভাষা নেই।

বিশ্ব অর্থনীতির টানাপোড়েন, রপ্তানি চাহিদার পতন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা—সবকিছু মিলিয়ে সবচেয়ে ঝুঁকিতে পড়ছেন এই শ্রমজীবী মানুষরাই। এমনকি তৈরি পোশাক খাতেও কারখানা বন্ধ হয়ে হাজারো শ্রমিক কাজ হারাচ্ছেন—স্বপ্ন ভেঙে যাচ্ছে, আবার নতুন করে গড়ার চেষ্টাও চলছে।

তবুও মে দিবস আসে—প্রতি বছর, নতুন করে আশা নিয়ে। এই দিনটি যেন শ্রমিক জীবনের এক অনন্ত প্রেমের গল্প—যেখানে কষ্ট আছে, তবুও আছে জেদ; বঞ্চনা আছে, তবুও আছে স্বপ্ন; আর আছে এক অদ্ভুত ভালোবাসা—নিজের কাজের প্রতি, নিজের জীবনের প্রতি।

মে দিবস তাই শুধু ইতিহাস নয়—এটি শ্রমিকের হৃদয়ের স্পন্দন, ঘামের গন্ধে লেখা এক রোমাঞ্চকর প্রেমকাব্য, যেখানে প্রতিটি সংগ্রামই একেকটি প্রতিশ্রুতি—একদিন হয়তো ন্যায্যতার সূর্য উঠবেই।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।