বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী শিলাইদহ কুঠিবাড়ি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও দ্বৈত বিতর্ক।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তীর অনুষ্ঠান শুরুর আগেই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে আমন্ত্রণপত্র ও অফিসিয়াল অনুষ্ঠানসূচি নিয়ে। অভিযোগ ওঠে, কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের এমপি আমির হামজা এবং কুষ্টিয়া-৪ আসনের এমপি আফজাল হোসেনের নাম সেখানে উল্লেখ করা হয়নি। বিষয়টি স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।
পরবর্তীতে পরিস্থিতি সামাল দিতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা দুই সংসদ সদস্যকে ফোন করে মৌখিকভাবে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানান এবং তাদের নাম ব্যানারে সংযুক্ত করার আশ্বাস দেন। তবে ততক্ষণে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়ে যায় নানা আলোচনা।
এদিকে অনুষ্ঠানে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেন কুষ্টিয়া-৪ আসনের এমপি আফজাল হোসেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, জাতীয় সংগীত পরিবেশন শেষ হওয়ার পর তিনি মঞ্চে উপস্থিত হন, যা নিয়ে উপস্থিত অনেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করেন। সমালোচকদের ভাষ্য, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নাম বাদ দিয়ে মন্ত্রণালয় যেমন প্রশ্নের মুখে পড়েছে, তেমনি অনুষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও প্রটোকল নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।
অন্যদিকে, রবীন্দ্রজয়ন্তীর এই আয়োজনকে ঘিরে শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে নেতাকর্মীদের নিয়ে উপস্থিত হন কুমারখালী পৌরসভার মেয়র প্রার্থী ও উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান সবুজ। তার আগমনেও অনুষ্ঠানস্থলে রাজনৈতিক আবহ আরও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।

ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও রাজনীতির মিশেলে এবারের রবীন্দ্রজয়ন্তী উদ্যাপন যেন পরিণত হয়েছে আলোচনা-সমালোচনার এক নতুন মঞ্চে।
