গণপূর্ত অধিদপ্তরে আবারও সামনে এসেছে নিয়োগ বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার ও কোটি টাকার দুর্নীতির ভয়াবহ অভিযোগ। আদালতের স্থগিতাদেশ উপেক্ষা করে নিয়োগ কার্যক্রম চালানো, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পদ বাগিয়ে নেওয়া এবং প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় পুরো সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকার অভিযোগে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের নাম। অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী শাসনামলে রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি গণপূর্ত অধিদপ্তরে একের পর এক সুবিধা নিয়েছেন। বিসিএস ক্যাডার না হয়েও বিশেষ সুবিধায় সরাসরি উচ্চ পদে নিয়োগ, সিনিয়রিটি বাণিজ্য এবং শত শত কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ ঘিরে এখন তোলপাড় চলছে প্রশাসনিক অঙ্গনে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গণপূর্ত অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী বিসিএসের মাধ্যমে ৯ম গ্রেডে সহকারী প্রকৌশলী নিয়োগ হওয়ার কথা থাকলেও প্রভাবশালী একটি চক্র সেই নিয়ম ভেঙে সরাসরি উচ্চ পদে বসানোর পথ তৈরি করে। সেই বিতর্কিত প্রক্রিয়ায় জাহাঙ্গীর আলমসহ কয়েকজনকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে আদালতের নির্দেশনা থাকার পরও নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে। অভিযোগ উঠেছে, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার আগেই নির্দিষ্ট প্রার্থীদের তালিকা প্রস্তুত করা হয় এবং মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে নিয়োগ বাণিজ্য পরিচালনা করা হয়।
নতুন করে আলোচনায় এসেছে বেতন উত্তোলন ও যোগদানের বিতর্কও। অভিযোগ রয়েছে, চাকরিতে যোগদান না করেই দীর্ঘ সময় সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করা হয়েছে। এমনকি একই সময়ে একাধিক প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে।
শুধু তাই নয়, গণপূর্তের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প, হাসপাতাল, আখতার ফার্নিচার ও ডট ফার্নিচারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ে টেন্ডার ভাগ-বাটোয়ারার অভিযোগও ঘুরছে সংশ্লিষ্ট মহলে। অভিযোগকারীরা বলছেন, কোটি কোটি টাকার কাজ নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে বছরের পর বছর।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন—এত অভিযোগ, এত নথি, এত আলোচনা থাকার পরও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কেন নীরব?
দুদকের দীর্ঘদিনের নিষ্ক্রিয়তা এখন জনমনে নতুন সন্দেহ তৈরি করেছে। সচেতন মহলের দাবি, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া ও শক্তিশালী লবিংয়ের কারণেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
এ ঘটনায় প্রশাসনিক মহলে চরম অস্বস্তি বিরাজ করছে। নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের সম্পদের হিসাব ও আদালতের নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
এসব বিষয় জানতে জাহাঙ্গীর বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে, দুই দপ্তর থেকে বেতন নেওয়া সম্পূর্ণ সরকারের ওপর দায় চাপানোর অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, সরকারের বিধান মোতাবেক দায়িত্ব পালন করেছি।এখন সবার চোখ দুর্নীতি দমন কমিশন, দুদক জালে আটকা পড়ে কিনা এমন প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিস্তারিত থাকছে পরের প্রতিবেদনে……
