শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সংবিধান সংশোধন কমিটিতে যাচ্ছে না জামায়াত-এনসিপি, রাজপথেই লড়াইয়ের ইঙ্গিত

আবদুর রহমান
জুন ৪, ২০২৬ ২:৩১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনী ঘিরে দেশের রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোট যে ‘সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটি’ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট। তাদের অবস্থান স্পষ্ট—গণভোটে জনগণ যে রায় দিয়েছে, সংবিধান সংস্কার হতে হবে সেই নির্দেশনা অনুযায়ীই।

বিরোধী নেতাদের দাবি, সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকার কারণে সরকার চাইলে নিজের মতো করেই সংবিধান সংশোধন করতে পারবে। ফলে কমিটিতে অংশ নিয়ে ভিন্নমত বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেওয়ার বাস্তব কোনো মূল্য নেই। অতীতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তারা বলছেন, বিরোধী মতামত শেষ পর্যন্ত উপেক্ষিতই হয়েছে।

এ কারণেই সংসদীয় কমিটির বদলে তারা রাজপথকে বেছে নিচ্ছেন। ইতোমধ্যে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ১৩ জুন থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত ছয় বিভাগীয় শহরে ধারাবাহিক সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। গত ১৫ মে রাজশাহীতে প্রথম সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগস্টে ঢাকায় বড় ধরনের শক্তি প্রদর্শনেরও পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

কমিটি নিয়ে সরকারের প্রস্তাব

গত ২৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনের জন্য ১৭ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। প্রস্তাব অনুযায়ী, সাতজন সদস্য হবেন বিএনপির এমপি। এছাড়া গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন ও স্বতন্ত্র সদস্যদের মধ্য থেকে পাঁচজন এবং বিরোধী দল থেকে আরও পাঁচজন সদস্য অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা।

তবে সেদিনই বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান জানান, কমিটি গঠনের বিষয়ে তাদের মৌলিক মতপার্থক্য রয়েছে। কারণ বিরোধীরা চায় সংবিধান সংস্কার, আর সরকার এগোচ্ছে সংবিধান সংশোধনের পথে।

আইনমন্ত্রী তখন বলেছিলেন, বিরোধী দলের সিদ্ধান্তের জন্য সরকার পরবর্তী অধিবেশন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে প্রস্তুত। কিন্তু এখন বিরোধীদের অবস্থান অনেকটাই স্পষ্ট।

‘বৈধতা দেওয়ার জন্য কমিটিতে নয়’

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সমকালকে বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে সংসদ ও কমিটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের ইচ্ছাই শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়। ফলে এ ধরনের কমিটিতে অংশগ্রহণ মানে কেবল সিদ্ধান্তকে বৈধতা দেওয়া।

তিনি বলেন, জামায়াত বা ১১ দলের আলাদা কোনো দাবি নেই। গণভোটে জনগণ যেভাবে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে, ঠিক সেভাবেই তা বাস্তবায়ন করতে হবে। এজন্য তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানিয়ে আসছেন।

অতীতের উদাহরণ টেনে বিরোধীদের আপত্তি

বিরোধীরা ২০১০ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীর সময় গঠিত বিশেষ কমিটির উদাহরণও সামনে আনছেন। তখন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার গঠিত কমিটিতে বিএনপিকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছিল, কিন্তু দলটি যোগ দেয়নি।

সেই কমিটি সংবিধানে ৫১টি সংশোধনের সুপারিশ করেছিল। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, শুরুতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের সুপারিশ না থাকলেও পরে আদালতের রায়ের নজির দেখিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই ব্যবস্থার বিলোপের পক্ষে অবস্থান নেন। এরপর কমিটির সদস্যরাও অবস্থান পরিবর্তন করে সর্বসম্মতিক্রমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের সুপারিশ করেন।

এই ঘটনাকে সামনে এনে হামিদুর রহমান আযাদের মন্তব্য, “তখন যা হয়েছে, এবারও তাই হবে।

একই অবস্থানে এনসিপি

এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেনও কমিটিতে যোগ না দেওয়ার পক্ষে অবস্থান জানিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, গণভোটে অনুমোদিত জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশে সংবিধান সংস্কারের পদ্ধতি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। সেই আদেশকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে ভিন্ন পথে এগোনো জনগণের রায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।

তিনি বলেন, “এনসিপি গণভোটের ম্যান্ডেটের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপের অংশ হবে না।”

সরকার এগোবে, বিরোধীরা দেখছে ‘ঝুঁকি’

সরকারি সূত্র বলছে, বিরোধী দলগুলো কমিটিতে না এলেও সংবিধান সংশোধনের কাজ থেমে থাকবে না। তবে বিরোধী নেতারা সতর্ক করে বলছেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হলেও তার রাজনৈতিক পরিণতি কারও জন্যই সুখকর হবে না।

মূল বিরোধ কোথায়?

জুলাই জাতীয় সনদের ৪৮টি প্রস্তাব সরাসরি সংবিধান-সংক্রান্ত। এর মধ্যে রয়েছে—

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠন পদ্ধতি,

ভোটের অনুপাতে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন,

সংবিধান সংশোধনে উচ্চকক্ষের অনুমোদন,

সাংবিধানিক কমিটির মাধ্যমে সরকারি কর্মকমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, ন্যায়পাল এবং মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক নিয়োগ।

এসব বিষয়ে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে। অন্যদিকে জামায়াত, এনসিপি ও তাদের মিত্ররা বলছে, গণভোটে ৬৮ দশমিক ৬ শতাংশ ভোটার যে প্রস্তাবগুলো সমর্থন করেছে, সেগুলো হুবহু বাস্তবায়ন করতে হবে।

তাদের বক্তব্য, সংশোধন নয়, গণভোটের রায় অনুযায়ী প্রকৃত সংবিধান সংস্কারই এখন সময়ের দাবি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।