রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সিরাজগঞ্জ গণপূর্তে ‘একক আধিপত্য’ নাকি দুর্নীতির সাম্রাজ্য? নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসানকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই ৪, ২০২৬ ৬:২০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মাহমুদুল হাসান। ফাইল ছবি

সিরাজগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগ যেন ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছে একজন কর্মকর্তার একক নিয়ন্ত্রণাধীন প্রশাসনিক বলয়ে, এমন অভিযোগ এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সংশ্লিষ্ট মহলে। বিভাগটির নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মাহমুদুল হাসান-এর বিরুদ্ধে উঠেছে টেন্ডার অনিয়ম, ঠিকাদারি সিন্ডিকেট, ভুয়া বিল, ওভারএস্টিমেট, নামে-বেনামে কাজ বাস্তবায়ন এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের একাধিক গুরুতর অভিযোগ। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, সরকারি প্রকল্পের কাজ থেকে বিল পরিশোধ—সবকিছুতেই ছিল তার একচ্ছত্র প্রভাব।

বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, ২০২৩ সালের নভেম্বরে সিরাজগঞ্জে যোগদানের পর থেকেই মাহমুদুল হাসান একটি প্রভাবশালী ঠিকাদারি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা ও খুলনার কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের আড়ালে থেকে নিজেই প্রকল্প নিয়ন্ত্রণ ও বাস্তবায়ন করে কোটি কোটি টাকার সরকারি অর্থ আত্মসাতের পথ তৈরি করেন। এ কারণে স্থানীয় ঠিকাদারদের বড় একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছেন।

ভূয়া প্রতিষ্ঠানের নামে কাজ, কাগজে প্রকল্প, বিলে পুরো টাকা

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও নিজ এলাকার কথিত ‘ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা’ আলী আকবরের প্রতিষ্ঠান দ্যা মাদার বিল্ডার্স-এর নামে একের পর এক সরকারি কাজ বরাদ্দ দেওয়া হয়।

২০২৩-২৪ অর্থবছরের ৯৩২২৫৪ নম্বর টেন্ডারে প্রায় ৪ লাখ ৪৮ হাজার টাকার ডিপটিউবওয়েল স্থাপন প্রকল্প বাস্তবে সম্পন্ন না করেই সম্পূর্ণ বিল উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে আদালত ভবনের অনার বোর্ড ও ফ্লাগস্ট্যান্ড নির্মাণ প্রকল্পেও আংশিক কাজ দেখিয়ে পূর্ণ অর্থ উত্তোলন ও ভাগাভাগির অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়া সিরাজগঞ্জ সার্কিট হাউসের ভিআইপি রুম আধুনিকায়ন, নার্সিং ইনস্টিটিউট এবং উপবিভাগীয় প্রকৌশলীর দপ্তরের রংকরণসহ একাধিক প্রকল্পেও অভিজ্ঞতা উপেক্ষা করে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এসএ এন্টারপ্রাইজ কি ছিল ‘অঘোষিত শাখা অফিস’?

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা দীন ইসলামের এসএ এন্টারপ্রাইজ-এর মাধ্যমেও বিপুল অঙ্কের সরকারি কাজ বাস্তবায়নের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার হলেও প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণ ছিল নির্বাহী প্রকৌশলীর ঘনিষ্ঠ বলয়ের হাতে।

উল্লাপাড়া টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট ভবন নির্মাণ, বেলকুচি মডেল মসজিদের ২৩ কোটিরও বেশি টাকার প্রকল্প, রায়গঞ্জ মডেল মসজিদের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণসহ একাধিক প্রকল্পে ওভারএস্টিমেটের মাধ্যমে অতিরিক্ত ব্যয় দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও সামনে এসেছে।

আরএফকিউ ভাগ করে নতুন কৌশল?

অভিযোগ রয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় সোয়া কোটি টাকার কাজ ছোট ছোট ৩৭টি আরএফকিউ প্যাকেজে ভাগ করে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বণ্টনের ব্যবস্থা করা হয়।

শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং জেলা কারাগারের বিভিন্ন কাজও একই কৌশলে এসএ এন্টারপ্রাইজ-এর নামে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

এদিকে, জুলাই আন্দোলনের পর একাধিক মামলার আসামি হিসেবে আত্মগোপনে থাকা দীন ইসলামের প্রতিষ্ঠানের নামে এখনও কাজ দেখিয়ে বিল উত্তোলনের অভিযোগও উঠে এসেছে অনুসন্ধানে।

আগের কর্মস্থলেও অভিযোগের পাহাড়

সূত্র জানায়, ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-১-এ কর্মরত থাকাকালীনও মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে টেন্ডার জালিয়াতির মাধ্যমে শতাধিক কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। এসব অভিযোগের কারণে একসময় তার পদোন্নতি স্থগিত ও পদাবনতির ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করা হয়েছে। পরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পুনরায় পদোন্নতি নিয়ে সিরাজগঞ্জে যোগদানের পর একই ধরনের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

জুন ক্লোজিংয়ে ভুয়া বিলের অভিযোগ

২০২৪ ও ২০২৫ সালের জুন ক্লোজিংকে কেন্দ্র করে ভুয়া বিল-ভাউচার এবং এএফকিউ প্রক্রিয়ার অপব্যবহারের মাধ্যমে প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও সামনে এসেছে। একই সঙ্গে বাবর অ্যাসোসিয়েটস নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কাজও পর্দার আড়াল থেকে নিজেই বাস্তবায়ন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

দুর্নীতির বলয়ে আরও কয়েকজন?

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এই অনিয়মের নেপথ্যে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী কল্যাণ কুমার কুন্ডু এবং ই/এম শাখার মিজানুর রহমান আকন-এর সম্পৃক্ততাও রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, পুরো বিভাগজুড়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যেখানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা কার্যত অনুপস্থিত।

বক্তব্য মেলেনি, তদন্তের আশ্বাস

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মাহমুদুল হাসান-এর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মোঃ খালেকুজ্জামান বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিরাজগঞ্জ গণপূর্তের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী কল্যাণ কুমার কুন্ডু এবং ই/এমন শাখার মিজানুর রহমান এর অনিয়মের তথ্যসহ বিস্তারিত থাকছে পরবর্তী প্রতিবেদনে। চলবে……….

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।