রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল বানিয়ে দুর্নীতি-টেন্ডার বাণিজ্যের অভিযোগ; একাধিক ছাত্র হত্যা মামলায় আসামি হলেও গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন নিয়ে প্রশ্ন। ফাইল ছবি
একাধিক ছাত্র হত্যা মামলার আসামি হয়েও বহাল তবিয়তে রয়েছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) শ্রমিক লীগ নেতা পান্না বিশ্বাস। স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় চাকরি পাওয়ার পর দলীয় পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সংস্থাটিতে প্রভাব বিস্তার, টেন্ডার বাণিজ্য, ঘাট ইজারা ও নিয়োগসংক্রান্ত অনিয়মে জড়িত ছিলেন বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, বিআইডব্লিউটিএর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে যোগসাজশে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন পান্না বিশ্বাস। শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি (সিবিএ নেতা), বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বিআইডব্লিউটিএ বঙ্গবন্ধু পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক—এমন একাধিক রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পদ ব্যবহার করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, টেন্ডার বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ছাত্রদের বিরুদ্ধে অর্থের জোগান দেওয়া এবং আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর হিসেবে ভূমিকা পালনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
রাজনৈতিক কোটায় চাকরি, এরপরই প্রভাব বিস্তার
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ২০১২ সালে আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতার সুপারিশে রাজনৈতিক বিবেচনা ও দলীয় কোটায় বিআইডব্লিউটিএর হিসাব বিভাগে সহকারী পদে নিয়োগ পান পান্না বিশ্বাস।
বর্তমানে তিনি শিমুলিয়া ড্রেজার বেইজে কর্মরত। তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলায়। বাবা পঞ্চানন বিশ্বাস ছিলেন স্কুলশিক্ষক।
অভিযোগকারীদের দাবি, মাত্র ১৩ বছরের চাকরিজীবনে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে পান্না বিশ্বাস বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে অর্জনের অভিযোগও রয়েছে।
হত্যা মামলার আসামি, তবু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এরপর বিভিন্ন সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রভাবশালী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠে।
কিন্তু পান্না বিশ্বাসের ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম ঘটেছে বলে অভিযোগ। একাধিক হত্যা মামলার আসামি হওয়ার পরও তিনি বিআইডব্লিউটিএতে বহাল রয়েছেন এবং সংস্থাটিতে অঘোষিত নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করছেন বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।
অভিযোগ রয়েছে, বিচারের মুখোমুখি করার পরিবর্তে উল্টো তাকে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পদায়ন করা হয়েছে। এতে সংস্থার সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন—একাধিক ফৌজদারি মামলার আসামি এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ থাকা একজন কর্মকর্তা কীভাবে এখনও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল থাকেন? তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেটিও এখন আলোচনায়।
তবে পান্না বিশ্বাসের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তার বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
