তানজিন তিশা ও সামিয়া অথই
ছোট পর্দার শুটিং সেটে একটি চড়—আর সেই ঘটনাকে ঘিরেই এখন তোলপাড় শোবিজ অঙ্গন। অভিনেত্রী তানজিন তিশা–র বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ এনে শিল্পীদের সংগঠন অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ–এ লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন অভিনেত্রী সামিয়া অথই।
বুধবার সন্ধ্যায় সংগঠনটির কাছে অভিযোগটি দেন অথই। তিনি বলেন, তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চান এবং এখন বিষয়টি শিল্পী সংঘের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।
এ বিষয়ে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু জানান, বিষয়টি চলতি সপ্তাহেই কার্যনির্বাহী পরিষদের বৈঠকে আলোচনা করা হবে। দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত গত মঙ্গলবার। সেদিন বিকেলে ফেসবুক লাইভে এসে সামিয়া অথই অভিযোগ করেন, মানিকগঞ্জ-এ ‘পুতুলের বিয়ে’ নামের একটি নাটকের শুটিং চলাকালে তাকে চড় মারেন তানজিন তিশা। অথইয়ের দাবি, দৃশ্যের মধ্যেই তাকে এমনভাবে চড় মারা হয় যে তার গাল ও চোখ ফুলে যায়।
অথই আরও বলেন, চিত্রনাট্য অনুযায়ী ওই দৃশ্যে তিশাকে নয়, বরং তাকেই তিশাকে একটি চড় মারার কথা ছিল। তিনি স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী চড় মারার পর তিশা তাকে একাধিকবার চড় মারেন—যা চিত্রনাট্যে ছিল না।
তবে অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন তানজিন তিশা। তার দাবি, তিনি কেবল চরিত্রের প্রয়োজনেই অভিনয় করেছেন। তিশা বলেন, আমি একজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন চরিত্রে অভিনয় করছি। স্ক্রিপ্টে যতটুকু ছিল, ততটুকুই করেছি—চরিত্রের বাইরে কিছু করিনি।
এ ঘটনার পর বুধবার রাতেই নির্মাতাসহ পুরো টিমকে নিয়ে ফেসবুক লাইভে আসেন তিশা। সেখানে উপস্থিত বেশ কয়েকজন সদস্য ঘটনার জন্য সামিয়া অথইকেই দায়ী করেন।
একটি চড়কে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই বিতর্ক এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের দৃষ্টি এখন শিল্পী সংঘের সিদ্ধান্তের দিকে—দেখার বিষয়, এই ‘চড় কাণ্ডে’ শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত আসে।
