চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম শেষে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এবং দলের দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি জাতীয় পার্টির (জাপা) নেতা মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীর বাঁশখালীর গ্রামের বাড়িতে ডিনার করেন এবং রাতযাপন করেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা, পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তৈরি হয়েছে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া।
রোববার রাতে বাঁশখালীর বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ শেষে নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আবদুল্লাহ এবং তাদের সফরসঙ্গীরা বৈলছড়ি গ্রামের ‘মিয়াবাড়ি’ নামে পরিচিত ওই বাড়িতে অবস্থান নেন। সেখানে তারা রাতের খাবার গ্রহণ করেন এবং রাতযাপন করেন। তবে ওই সময় জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বাঁশখালীর সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী নিজে বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না।
ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কারণ, আওয়ামী লীগের বিতর্কিত নির্বাচনে সহযোগিতার অভিযোগ তুলে জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধের দাবিতে অতীতে আন্দোলন করেছিল এনসিপিসহ কয়েকটি সমমনা রাজনৈতিক দল। সেই প্রেক্ষাপটে জাপার একজন শীর্ষ নেতার বাড়িতে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের ডিনার ও রাতযাপনের বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে বিষয়টির ব্যাখ্যায় এনসিপির স্থানীয় নেতারা দাবি করেছেন, নাহিদ ইসলাম ও হাসনাত আবদুল্লাহ জানতেন না যে এটি মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীর বাড়ি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাহমুদুল ইসলামের যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ভাই রায়হানুল ইসলাম চৌধুরীর সঙ্গে এনসিপি নেতাদের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে। সেই সূত্র ধরেই তারা ওই বাড়িতে অতিথি হিসেবে অবস্থান করেছেন।
এ বিষয়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক এবং চট্টগ্রাম-৮ আসনে দলের সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফ বলেন, রায়হানুল ইসলাম চৌধুরী পরিবেশ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত এবং তার সঙ্গে দলের নেতাদের ব্যক্তিগত যোগাযোগ রয়েছে। সেই পরিচয়ের ভিত্তিতেই তারা সেখানে গিয়েছিলেন। এটি যে জাতীয় পার্টির নেতা মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীর বাড়ি—সে তথ্য তাদের জানা ছিল না।
অন্যদিকে মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীও একই ধরনের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, বাড়িটি শুধু আমার নয়, আমাদের ছয় ভাইয়ের যৌথ বাড়ি। নিউইয়র্কপ্রবাসী আমার এক ভাইয়ের সঙ্গে এনসিপি নেতাদের যোগাযোগ রয়েছে। তার সঙ্গে কথা বলেই তারা গ্রামের বাড়িতে এসেছেন, ডিনার করেছেন এবং রাতযাপন করেছেন।
ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্টরা এটিকে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত যোগাযোগের ভিত্তিতে আতিথ্য গ্রহণের ঘটনা বলে দাবি করছেন, তবুও বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক কৌতূহল ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
