গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা নাসরিনের বিরুদ্ধে সরকারি উন্নয়ন বরাদ্দ বণ্টনে অনিয়ম, বৈষম্য, সরকারি অর্থের অপব্যবহার এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি বরাদ্দের অর্থ ছাড় হলেও বহু বিদ্যালয়ে তার দৃশ্যমান বাস্তবায়ন হয়নি। কোথাও কাগজে-কলমে সংস্কারকাজ সম্পন্ন দেখানো হলেও বাস্তবে বিদ্যালয়ের ভবন, শ্রেণিকক্ষ ও অন্যান্য অবকাঠামো আগের মতোই জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও সংস্কারের জন্য সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে কাজের বাস্তব অগ্রগতি চোখে পড়েনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, শতাধিক বিদ্যালয়ের নামে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ ছাড় হলেও অধিকাংশ স্থানে উন্নয়নকাজের দৃশ্যমান প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক প্রধান শিক্ষক জানান, বরাদ্দের অর্থ ব্যবহারে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের স্বাধীনতা ছিল না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করতে বাধ্য হওয়ায় সরকারি হিসাব ও বাস্তব ব্যয়ের মধ্যে অমিল সৃষ্টি হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
এদিকে দ্বাদশ ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত যোগীরসিট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জরাজীর্ণ দেখিয়ে সংস্কারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হলেও সেই বরাদ্দের বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে প্রকৃতপক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা কর্ণপুর, চরবাহার ও সোনাকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দফতরিদের অভিযোগ, বেতন-ভাতা ও উৎসব বোনাস প্রদানের ক্ষেত্রেও তাদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, একটি প্রশিক্ষণে প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীর জন্য সরকারিভাবে ৫৪০ টাকা এবং কোর্স ম্যাটেরিয়ালের জন্য অতিরিক্ত ৪৫ টাকা বরাদ্দ ছিল। তবে একাধিক শিক্ষকের অভিযোগ, তারা নাশতা ছাড়া অন্য কোনো সুবিধা পাননি। তাদের দাবি, ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা নাসরিন বলেন, শ্রীপুর উপজেলায় সাতজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রয়েছেন। সাব-ক্লাস্টার প্রশিক্ষণের অর্থ তাদের অনুকূলে বরাদ্দ আসে। তারা ব্যয় শেষে বিল জমা দেন। আমরা সরকারি প্রক্রিয়ায় অর্থ উত্তোলন করে তাদের কাছে হস্তান্তর করি। পরে তারা কীভাবে অর্থ ব্যয় করেছেন, সে বিষয়ে তারাই ব্যাখ্যা দিতে পারবেন।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদ ভূঁইয়া বলেন, যে প্রতিষ্ঠানে বরাদ্দ দেওয়া হবে, সেখানে অবশ্যই কাজ হতে হবে। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং সরকারি উন্নয়ন বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
প্রতিবেদনের উল্লিখিত অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ। এসব অভিযোগের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।
