সোমবার রাতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিক্ষার্থী ও সংবাদকর্মীদের মারধর করে পুলিশ
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান হঠাৎই পরিণত হলো আতঙ্কের মঞ্চে। মাদকবিরোধী অভিযানের নামে শিক্ষার্থী ও দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের মারধরের অভিযোগে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে।
রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযুক্ত চার কনস্টেবলকে শাহবাগ থানা থেকে ক্লোজড করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত-
সোমবার রাত। উদ্যানজুড়ে চলছিল পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, অভিযানের একপর্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাঈম উদ্দীনসহ কয়েকজন দর্শনার্থী এবং দুই সাংবাদিক পুলিশের লাঠিচার্জের শিকার হন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা হলেন—
বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের তোফায়েল আহমেদ
আজকের পত্রিকার কাউসার আহমেদ রিপন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তোফায়েল আহমেদকে ঘিরে ধরে কয়েকজন পুলিশ সদস্য লাঠি দিয়ে আঘাত করছেন। পরে অন্য সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
ক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা-
ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার শাহবাগ থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভে নামেন নাঈমের সহপাঠীরা। দুপুর ১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত থানার সামনে অবস্থান নিয়ে তারা তিন দফা দাবি জানান এবং দায়ীদের শাস্তির দাবিতে স্লোগান দেন।
পরে পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস পেলে বিক্ষোভকারীরা সরে যান।
প্রশ্নের মুখে অভিযান-
ঘটনার পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে—মাদকবিরোধী অভিযান কি সীমা ছাড়িয়েছে? দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা কেন পুলিশের লাঠির আঘাতের শিকার হলেন— এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে চলছে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্ক।
চার পুলিশ সদস্য ক্লোজড হওয়ায় আপাতত কিছুটা উত্তেজনা কমলেও, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এখনও সোচ্চার শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক মহল।
