সোমবার, ২০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বার্ন ইনস্টিটিউটে ‘অবৈধ পদ সৃষ্টি করে’ দীপুকে নিয়োগের অভিযোগ, পরিচালক নাসির উদ্দীনের বিরুদ্ধে টেন্ডার ও প্রশাসনিক অনিয়ম নিয়েও প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই ১৯, ২০২৬ ১০:১৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারিতে (এনআইবিপিএস) কোনো অনুমোদিত পদ না থাকা সত্ত্বেও মো. তোফায়েল আহমেদ দীপু নামে এক ব্যক্তিকে রহস্যজনকভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দীনের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ অনুযায়ী, পরিচালক স্বাক্ষরিত একটি পত্রের মাধ্যমে দীপুকে এমন একটি দায়িত্ব দেওয়া হয়, যা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামোতে নেই। তিনি নিজেকে পরিচালকের ‘ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস-টু)’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সেই পরিচয় ব্যবহার করেন।

এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—কোন আইনি বা প্রশাসনিক ভিত্তিতে এ ধরনের একটি পদ সৃষ্টি করা হয়েছে এবং কী প্রক্রিয়ায় সেখানে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে?

অভিযোগকারীদের দাবি, দীপু ইনস্টিটিউটের টেন্ডার কার্যক্রম, আউটসোর্সিং নিয়োগ, বিভিন্ন কেনাকাটা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাসিক ১৯ হাজার টাকা বেতনে নিয়োগপ্রাপ্ত একজন কর্মচারীর ব্যক্তিগত বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহার নিয়েও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অনুসন্ধানে প্রাপ্ত নথির বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, পরিচালক ডা. নাসির উদ্দীনের সঙ্গে একটি বেসরকারি হাসপাতালের সম্পৃক্ততা রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি বার্ন ইউনিট ছাড়া অন্য কোনো হাসপাতালের পরিচালক নই। পরে কথা বলব।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, বার্ন ইনস্টিটিউটের রোগীদের বিভিন্নভাবে ওই বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে উৎসাহিত করা হয়। তবে এ অভিযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত মন্তব্য করতে পরিচালক পরে সময় দেওয়ার কথা জানান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, প্রতিষ্ঠানে টেন্ডার প্রক্রিয়া, আউটসোর্সিং নিয়োগ, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে আচরণ এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ রয়েছে। কর্মরত অনেকেই নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, একাধিক চিকিৎসক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দিলেও এখন পর্যন্ত সেসব অভিযোগের কার্যকর তদন্ত শুরু হয়নি। অভিযোগকারীদের কেউ কেউ পরবর্তীতে বদলির শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

এদিকে সাম্প্রতিক ক্রয় কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক বেশি দামে চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা হয়েছে এবং কিছু পণ্যের চাহিদা বাস্তব প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ রাশেদ রাব্বি এ ধরনের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে বলেন, প্রয়োজন নেই এমন পণ্য দরপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হলে তা গুরুতর অনিয়মের শামিল হতে পারে এবং নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়ার কৌশল হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে।

এছাড়া পণ্য পুরোপুরি সরবরাহের আগেই বিল পরিশোধ, আউটসোর্সিং নিয়োগে অনিয়ম, সরকারি সম্পদের অপব্যবহার, সরকারি বিধি অনুসরণ না করে পদ সৃষ্টি, বিদেশ সফর এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েও বিস্তর অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।

অভিযোগকারীরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে—দীপুর নিয়োগ ও দায়িত্বের বৈধতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট সব ক্রয় কার্যক্রমের স্বাধীন নিরীক্ষা, পরিচালক ডা. নাসির উদ্দীনের ভূমিকার তদন্ত, আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ মিললে অর্থ পুনরুদ্ধার এবং সাক্ষ্য দিতে আগ্রহীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো প্রকাশিত হয়নি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।